পোশাক প্রস্তুতে গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম

আজকে আমরা পোশাক প্রস্তুতে গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা টেক্সটাইল টেস্টিং অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল ৩ এর অ্যাপারেল কোয়ালিটি এর অন্তর্গত।

 

পোশাক প্রস্তুতে গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম

 

 পোশাক প্রস্তুতে গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম (Quality control activities on apparel manufacturing)

গার্মেন্টস শিল্পে পোশাকের গুনাগুন নিয়ন্ত্রণ একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। এ গার্মেন্টস শিল্প থেকে মোট রপ্তানি আয়ের শতকরা ৭৬ ভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। তাই এ শিল্পে ক্রেতার চাহিদা মোতাবেক গুণাগুণসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। অন্যথায় কোম্পানির সুনাম ক্ষুণ্ণ হয় এবং প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়।

এমতাবস্থায় গার্মেন্টস শিল্পের পণ্যের গুনাগুণ বজায় রাখা এবং তা আরও উন্নতির স্বার্থে নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ হল উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে একাধিক কৌশল, ব্যবস্থা ও পদ্ধতিসমূহের প্রয়োগ যাতে ত্রুটিপূর্ণ পণ্য তৈরি হতে না পারে অথবা ত্রুটিপূর্ণ পণা তৈরি হওয়া শুরুর সাথে সাথে তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়া যাতে পুনরায় ত্রুটি দেখা দিতে না পারে।

 

পোশাক প্রস্তুতে গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম

 

গার্মেন্টস কারখানায় সাধারণত স্টোরে সরবরাহকৃত কাঁচামাল ও অন্যান্য সহায়ক দ্রব্যাদি হতে উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে ও ফিনিশিং বিভাগের সকল শাখায় নিরলস ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পণ্যের গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের সক্রিয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়।

পোশাক প্রস্তুতকারী কারখানায় সাধারণত মান নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রমকে চার ভাগে ভাগ করা যায়-

১। স্টোরে সরবরাহকৃত কাঁচামাল যেমন- কাপড়, ট্রিমিংস, অ্যাক্সেসরিজ ও অন্যান্য মালামালের গুণাগুণ যাচাই।

২। প্যাটার্ন ডিজাইন ও কাটিং বিভাগে গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ

৩। সেলাই বিভাগে গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ।

৪। ফিনিশিং বিভাগে গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।

পোশাক প্রস্তুতকারী কারখানার মান নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম নিম্নে আলোচনা করা হল-

১। স্টোরে সরবরাহকৃত কাপড়ের গুণাগুণ স্পেসিফিকেশন মত আছে কি না তা পরীক্ষা বা যাচাই করা হয়।

২। ত্রুটিযুক্ত কাপড়ের লট আলাদা করা হয় এবং এ ব্যাপারে সরবরাহকারী ও ক্রেতাকে জানানো হয়।

৩। ট্রিমস, অ্যাক্সেসরিজ ও অন্যান্য মালামালের গুণাগুণ স্পেসিফিকেশন মত আছে কি না তা যাচাই করা হয়।

৪। ট্রিমস, অ্যাক্সেসরিজ ও অন্যান্য মালামালে কোন ত্রুটি পাওয়া গেলে তা অনতিবিলম্বে সরবরাহকারী ও ক্রেতাকে

জানানো হয়।

 

পোশাক প্রস্তুতে গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম

 

৫। প্যাটার্ন ও তার গ্রেডিং চেক করা হয়।

৬। ত্রুটিপূর্ণ প্যাটার্ন ও গ্রেডিং বাছাই করে আলাদা করা হয়।

৭। ত্রুটিপূর্ণ প্যাটার্ন ও গ্রেডিং শোধরানো হয় এবং স্যাম্পল তৈরি করে যাচাই করা হয়।

৮। মার্কারের ত্রুটি ও সঠিক কনজাম্পশনের জন্য মার্কার পরীক্ষা করা হয়।

৯। ত্রুটিপূর্ণ মার্কার শোধরানো হয় ও কনজাম্পশনে আনা হয়।

১০। নিটিং এর কাপড়ের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা রিলাক্স টাইম দেয়া হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়।

১১। স্প্রেডিং এর সময় সঠিক লে (Ley) দেয়া হয়েছে কি না ও লে.এর উচ্চতা যাচাই করা হয়।

১২। কাটিং, নাম্বারিং ও লট বাইন্ডিং সঠিক হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়।

১৩। সেলাই বিভাগে প্রসেস ইন্সপেকশনের জন্য ট্রাফিক লাইট চার্ট (Traffic light chart) ব্যবস্থা চালু করা হয় যাতে লাইনের কাটিং মনিটর করা যায়।

১৪। প্রতি প্রসেস পরিদর্শন করা হয় এবং তার ফলাফল ট্রাফিক লাইট চার্টে লিপিবদ্ধ করা হয়।

১৫। কোন ত্রুটি শনাক্ত করা হলে তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

১৬। উৎপাদন লাইনে তৈরিকৃত অর্থাৎ সেলাইকৃত শতকরা ১০০ ভাগ পণ্যের গুণাগুণ স্পেসিফিকেশন মোতাবেক হয়েছে কি না তা টেনিলে পরীক্ষা যাচাই করা হয়।

১৭। টেৰিলে গুণাগুণ শাসকর পণ্যকে স্ট্যাটিসটিক্যাল (Statistical) পদ্ধতিতে অর্থাৎ নৈব নমুনায়নের ভিত্তিতে যাচাই করা হয় যাতে শুণাগুণের ব্যাপারে আরও নিশ্চিত হওয়া যায়।

১৮। মেরামতযোগ্য পণ্যকে আলাদা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পর পুনরায় গুণাগুণ যাচাই করা হয়।

১৯। মেরামত করা পণ্যের মধ্যে যেগুলোর গুণাগুণ সঠিক হয়েছে তা আলাদা করা হয় এবং বাতিলগুলো আলাদাভাবে নির্দিষ্ট বাজেটে রাখা

 

পোশাক প্রস্তুতে গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম

 

২০। এ ছাড়া টেবিলে বাচাইকৃত পণ্যের মধ্যে বাতিল পণ্যও আলাদা নির্দিষ্ট বাস্কেটে কোয়ালিটি ম্যানেজারের অধীনে রাখা হয়।

২১। ফিনিশিং বিভাগে আয়রনিং ও ফোল্ডিং এর পূর্বে সব পণ্যের মান পরীক্ষা বা যাচাই করা হয়।

২২ আরনিং ও ফোল্ডিং এর গুনাগুণ যাচাই করা হয়, যাতে ক্রেতার চাহিদা মোতাবেক হয়।

 

২৩। পলিব্যাগে পণ্য ভরা ঠিক হচ্ছে কি না বা পলিব্যাগে নষ্ট হচ্ছে কি না তা যাচাই করা হয়

২৪। কার্টনের মান ঠিক আছে কি না, শিপিং মার্ক ও সাইড মার্ক ঠিক আছে কি না তা যাচাই করা হয়।

২৫। ত্রুটিমুক্ত যন্ত্রপাতি দিয়ে সঠিক নিয়মে ও সঠিক পরিবেশে গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয়।

২৬। গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

২৭। গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মীদের পরিসংখ্যান গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

২৮। ধারাবাহিকভাবে পণ্যের মান উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়।

 

 

Leave a Comment