আজকে আমরা স্ট্যাটিসটিক্যাল কোয়ালিটি কন্ট্রোলের অনুশীলনী আলোচনা করবো। যা টেক্সটাইল টেস্টিং অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল ৩ এর স্ট্যাটিসটিক্যাল কোয়ালিটি কন্ট্রোল এর অন্তর্গত।

স্ট্যাটিসটিক্যাল কোয়ালিটি কন্ট্রোলের অনুশীলনী
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর :
১. কোয়ালিটি বা গুণাগুণ কী?
উত্তর : কোয়ালিটি হল একটি ডিগ্রি অর্থাৎ তা কতখানি ক্রেতার সন্তুষ্টি মিটাতে সক্ষম
২. কোয়ালিটি কন্ট্রোল বা গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: উৎপাদিত দ্রব্যের মান যে সমস্ত পরিবর্তনশীল বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয় তাদের প্রণালিবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণকে গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ বা কোয়ালিটি কন্ট্রোল বলে।
৩. গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ (Quality control) কৌশলগুলো কী কী?
উত্তর : গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ কৌশলগুলো দুই শাখায় বিভক্ত-
(i) পরিদর্শন গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ এবং (ii) পরিসংখ্যান গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ ।
৪. পরিদর্শন গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের (Quality control) জন্য কী কী বিষয় বিবেচনা করা হয়?
উত্তর : পরিদর্শন গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিম্নলিখিত বিষয় বিবেচনা করা হয়-
(1) কোথায় পরিদর্শন করা হবে,
(ii) কত পরিমাণে পরিদর্শন করা হবে,
(iii) কে পরিদর্শন করবে এবং
(iv) পরিদর্শন ব্যয় ও তার নিয়ন্ত্রণ ।
৫. পরিসংখ্যান গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ (Statistical quality control) বলতে কী বোঝায়?
অথবা, স্ট্যাটিসটিক্যাল কোয়ালিটি কন্ট্রোল বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : গাণিতিক সম্ভাবনা তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে পরিসংখ্যান পদ্ধতি গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ সমস্যাগুলোতে ব্যবহার করার কৌশলকেই পরিসংখ্যান গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ বলে।
৬. পণ্যের গুণাগুণ তারতম্যের কারণ কয়টি ও কী কী?
উত্তর : পণ্যের গুণাগুণ তারতম্যের কারণ ২টি, যথা-
(i) গ্রহণযোগ্য তারতম্য
(ii) প্রতিরোধযোগ্য তারতম্য।
৭. গ্রহণযোগ্য তারতম্য বলতে কী বুঝায়?
উত্তর : যে কতিপয় ক্ষুদ্র তারতম্য প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে হয়ে থাকে এবং এ কারণগুলো দূর করা যায় না তাকে গ্রহণযোগ্য তারতম্য বলে।
৮. প্রতিরোধ তারতম্য বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: তারতম্যের যে সকল কারণগুলো পরিমাপ করা যায় এবং চোখে দেখা যায় ও দূর করা সম্ভব অর্থাৎ বড় ধরনের কারণে সৃষ্ট তারতম্যকে প্রতিরোধযোগ্য তারতম্য বলে ।

৯. কন্ট্রোল চার্ট কী?
উত্তর: কন্ট্রোল চার্ট হচ্ছে একটি পরিসংখ্যান টুল (Statistical tool) যা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রসেসকে নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
১০। কন্ট্রোল চার্টে কয়টি লিমিট থাকে ও কী কী?
উত্তর: কন্ট্রোল চার্টে গড় রেখা ছাড়া আরও ৪টি লিমিট রয়েছে। যথা-
(i) আপার কন্ট্রোল লিমিট,
(ii) আপার ওয়ার্নিং লিমিট,
(iii) লোয়ার কন্ট্রোল লিমিট এবং
(iv) লোয়ার ওয়ার্নিং লিমিট।
১১ । নিয়ন্ত্রণ সীমা বা কন্ট্রোল লিমিট বলতে কী বুঝায় ?
উত্তর : এটি এমন লিমিট বা সীমা যেখানে প্রকৃতপক্ষে উৎপাদন প্রক্রিয়ার কোন দ্রব্যের পরীক্ষালব্ধ ফলাফলের সবগুলোই অবস্থান করে।
১২। স্পেসিফিকেশন লিমিট বলতে কী বুঝায় ?
উত্তর: কোন নির্দিষ্ট দ্রব্য উৎপাদনের সময় তার গ্রহণযোগ্যতার সর্বোচ্চ তারতম্যের সীমা বা লিমিটকে স্পেসিফিকেশন লিমিট বলে।
১৩। কন্ট্রোল চার্টের লিমিটগুলো কী কী?
উত্তর: কন্ট্রোল চার্টের তিনটি সীমা বা লিমিট আছে। যেমন-
(ক) আপার কন্ট্রোল লিমিট,
(খ) লোয়ার কন্ট্রোল লিমিট এবং
(গ) গড় বা সেন্ট্রাল লাইন।
তবে বিশ্লেষণের স্বার্থে আরও দুইটি লিমিট অঙ্কন করা হয়। যেমন-
১। আপার ওয়ার্নিং লিমিট এবং
২। লোয়ার ওয়ার্নিং লিমিট।
১৪। গাণিতিক গড় কাকে বলে?
উত্তর: কোন তথ্যসারিতে যতগুলো সংখ্যা বা মান থাকে তাদের সমষ্টিকে তত দ্বারা ভাগ করলে যে মান পাওয়া যায়, তাকে গাণিতিক গড় বলে।
১৫। পরিমিত ব্যবধান (Standard deviation) কাকে বলে?
অথবা, পরিমিত ব্যবধানকে সাধারণত কী দ্বারা প্রকাশ করা হয়?
উত্তরঃ কোন নিবেশনের গড় থেকে সংখ্যাগুলোর ব্যবধানের বর্গের সমষ্টিকে নমুনার সংখ্যা দ্বারা ভাগ করে যে মান পাওয়া যায় তার ধনাত্মক বর্গমূলকে পরিমিত ব্যবধান বলে। একে 6 দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
১৬। কন্ট্রোল চার্ট প্রধানত কয় ধরনের ও কী কী?
উত্তর: কন্ট্রোল চার্ট প্রধানত দুই প্রকার, যথা-
১। কন্ট্রোল চার্ট ফর ভেরিয়েবল এবং
২। কন্ট্রোল চার্ট ফর অ্যাট্রিবিউট।
১৭। কন্ট্রোল চার্ট ফর ভেরিয়েবল কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর :কন্ট্রোল চার্ট ফর ভেরিয়েবল তিন প্রকার, যথা-
১। গড় কন্ট্রোল চার্ট,
২। পরিসর বা রেঞ্জ কন্ট্রোল চার্ট এবং
৩। পরিমিত ব্যবধান কন্ট্রোল চার্ট।
১৮। ফ্র্যাকশন ডিফেকটিভ বলতে কী বুঝায়?
উত্তর : কোন পরীক্ষায় ডিফেকটিভ সংখ্যাকে যদি পরীক্ষালব্ধ ডাটার সাথে অনুপাত করা হয় তবে তাকে ফ্রাকশন ডিফেকটিভ বলে।
১৯। পারসেন্ট ডিফেকটিভ বলতে কী বুঝায়?
উত্তর : কোন পরীক্ষায় ডিফেকটিভ সংখ্যাকে যদি পরীক্ষালব্ধ ডাটার শতকরা বা পারসেন্ট আকারে প্রকাশ করা হয় তবে তাকে পারসেন্ট ডিফেকটিভ বলে।

২০। কন্ট্রোল চার্ট ফর নাম্বার অব ডিফেকটিভ বলতে কী বুঝায়?
উত্তর : এ প্রকার চার্ট দ্বারা সাধারণত প্রতি এককে ত্রুটি সংখ্যা গণনা করা হয় এবং ত্রুটি সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
২১। কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেল বলতে কী বুঝায়?
উত্তর : কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেল হল একটি অপেক্ষাকৃত স্বাধীন স্বেচ্ছাভিত্তিক গঠিত সমস্যা সমাধানকারী দল।
২২। দলনেতার কাজ কী?
উত্তর : দলনেতা সদস্যদের সৃজনশীলতা ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর ব্যবস্থা করেন।
২৩। মার্সেরাইজিং এসেসে গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রগুলো কী কী?
উত্তর : মার্সেরাইজিং প্রসেসে গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রগুলো নিম্নরূপ ঃ
১. কোথায় পরিদর্শন করা হবে:
২. কত পরিমাণ পরিদর্শন করা হবে।
৩. কে পরিদর্শন করবে:
৪. তার বাম কেমন হবে:
৫. নিয়ন্ত্রণ করবে কীভাবে।
২৪। ব্রিটিশ পদ্ধতিতে অ্যাকশন লিমিটের সূত্র লেখ।
উত্তর : ব্রিটিশ পদ্ধতিতে অ্যাকশন লিমিটের সূত্র দুটি-
১। আপার অ্যাকশন লিমিট UAL = X + 3σ
২। লোয়ার অ্যাকশন লিমিট LAL – X – 3σ
২৫। বিট্রিশ পদ্ধতিতে অ্যাকশন ওয়ার্নিং লিমিট নির্ণয়ের সূত্র লেখ
উত্তর: ওয়ার্নিং লিমিট WL = np ± ২√ np(1-p)
২৬। চার্টের চিত্র অঙ্কন করে দেখাও?
উত্তর : নিচে কন্ট্রোল চার্টের চিত্র দেখানো হল ঃ

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
১। কন্ট্রোল চার্টের সুবিধা লেখ।
উত্তর: কন্ট্রোল চার্টের সুবিধাসমূহ নিম্নরূপ :
১। মেশিনের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
২। কন্ট্রোল চার্টের সঠিক ব্যবহারে পরীক্ষণ ও পরিদর্শন খরচ হ্রাস পায়।
৩। উৎপন্ন দ্রব্যের প্রতিরোধযোগ্য তারতম্যের মাত্রা কমানো যায়।
৪। উৎপাদনের সময় যে সমস্ত অসুবিধা দেখা দেয় তাদের অবস্থান জানা যায়
৫। কন্ট্রোল চার্টের সাহায্যে দ্রব্যের গুণগত মানের স্থায়ী সচিত্র রেকর্ড পাওয়া যায়।
২। পরিসংখ্যান গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের প্রকারভেদ লেখ।
উত্তর: পরিসংখ্যান গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের প্রকারভেদ নিম্নরূপ :
১। স্যাম্পলিং টেকনিক
২। পরিমিত ব্যবধান
৩। টেস্ট অব সিগনিফিকেন্স
৪। কোরিলেসন
৫। কন্ট্রোল চার্ট
৬। রিগ্রেশন
৭। ভেরিয়্যান্স অ্যানালাইসিস
৩। ননওভেন কাপড়ের কোয়ালিটি প্যারামিটারগুলোর নাম লেখ।
উত্তর: ননওভেন কাপড়ের কোয়ালিটি প্যারামিটারগুলোর নাম নিম্নরূপ।
১. কাঁচামাল
২. মেশিনারি
৩. বিদ্যুৎ
৪. তাপমাত্রা
৫. আদ্রতা
৬. বায়ুস্থিত ধুলাবালি
৪। কন্ট্রোল চার্টের সুবিধা অসুবিধা লেখ।
উত্তরঃ কন্ট্রোল চার্টের সুবিধা অসুবিধাগুলো নিম্নরূপ :
সুবিধা (Advantage)
১। উৎপন্ন দ্রব্যের গুণগত মান বজায় রাখা যায় এবং গুণগত মান বৃদ্ধি করা যায়।
২। উৎপন্ন দ্রব্যের প্রতিরোধযোগ্য তারতম্যের মাত্রা কমানো যায়।
৩। উৎপাদিত দ্রব্যের গুণগত মানের তারতম্যের পরিমাণের পূর্ব সংকেত পাওয়া যায়।
৪। কন্ট্রোল চার্টের সঠিক ব্যবহারে পরীক্ষণ ও পরিদর্শন খরচ হ্রাস পায়
অসুবিধা (Disadvantage)
১। নমুনায়ন ও পরীক্ষণ এর উপর ব্যাপক জ্ঞান না থাকলে কন্ট্রোল চার্ট অর্থবহ হয় না।
২। কন্ট্রোল চার্ট অঙ্কনের উপর পারদর্শিতা থাকতে হয় ।।
৩। কন্ট্রোল চার্ট উপস্থাপনের উপর সঠিক দক্ষতার প্রয়োজন হয়।
৪। চার্টের কোন তথ্য ভুল হলে সমস্ত আয়োজনই বৃথা হয়।
৫. গ্রহণযোগ্য তারতম্য ও প্রতিরোধযোগ্য তারতম্যের পার্থক্য লেখ।
উত্তর: নিম্নে গ্রহণযোগ্য তারতম্য ও প্রতিরোধযোগ্য তারতম্যের পার্থক্য দেয়া হল
|
গ্রহণযোগ্য তারতম্য |
প্রতিরোধযোগ্য তারতম্য |
| ১। গ্রহণযোগ্য তারতম্যের কারণ নির্ণয় করা কষ্টসাধ্য। | ১। প্রতিরোধযোগ্য তারতম্যের কারণ নির্ণয় করা তেমন কষ্টসাধ্য নয়। |
| ২। এ ধরনের তারতম্য দ্বারা দ্রব্যের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় না হলেও খুব সামান্য। | ২। এ ধরনের তারতম্য যারা দ্রব্যের গুণগত মান বেশি পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় । |
| ৩। পরিসংখ্যান গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় এ ধরনের তারতম্যকে মেনে নেয়া হয়। | ৩। পরিসংখ্যান গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় ধরনের তারতম্যকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। |
| ৪। গ্রহণযোগ্য তারতম্য সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য। | ৪. সর্বজনীনভাবে গ্রহণীয় হয় না। |
| ৫। এক্ষেত্রে অনুসন্ধান করা হয় না। | ৫। এক্ষেত্রে অনুসন্ধান করা হয়। |
৬। গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য লেখ।
উত্তর : গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য নিম্নরূপ :
১. দ্রব্য উৎপাদনের সময় গুণগত মানের বিচ্যুতির ধারা ও পরিধি বিশ্লেষণ করা এবং উক্ত বিচ্যুতির কারণ নির্ণয় করা।।
২.কাক্ষিত মান অপেক্ষা নিম্নমানের উৎপাদিত হলে তা পরিহারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৩. ক্রেতাকে যাতে গ্রহণযোগ্য গুণাগুণের দ্রব্য সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় সেদিকে লক্ষ রাখা।
৭। পরিসংখ্যান গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব লেখ।
উত্তর : পরিসংখ্যান গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব নিম্নরূপ
১। প্রতিরোধযোগ্য তারতম্য হতে গ্রহণযোগ্য তারতম্যকে পৃথক করা যায়।
২। প্রতিরোধযোগ্য তারতম্যের কারণ উৎঘাটিত হওয়ার সাথে সাথে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া যায়।
৩। এর মাধ্যমে পণ্যের মান বজায় রাখা যায় ও আরও উন্নত করা যায়।
৪। ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্ভরযোগ্য কারণ বা ভিডিও পাওয়া যায়
৫. পরীক্ষণ ও পরিদর্শন ব্যয় কমানো যায়।

৮। কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেল বলতে কী বুঝায়?
উত্তর : কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেল হল একটি অপেক্ষাকৃত স্বাধীন। স্বেচ্ছা ভিত্তিতে গঠিত সমস্যা সমাধানকারী দিল। একই সেকশনে একই ধরনের কাজে জড়িত কর্মীদের একটি ছোট দল এ সার্কেলের সাথে যুক্ত থাকে। যারা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান এবং উৎপাদনশীলতা সম্পর্কিত সমস্যা চিহ্নিত করে এবং তা সমাধান করে।
৯। কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেলের বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর : কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেলের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ
১। কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেল একটি সমস্যা সমাধানকারী দল।
২। কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেল একটি স্বেচ্ছাভিত্তিতে গঠিত দল।
৩। কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেলের সদস্যগণ একই কর্মস্থল থেকে আসে।
৪। সদস্যগণ তাদের কাজ ও সমস্যা সম্পর্কে ভালোই অবগত।
৫। তারা দলীয় সৃজনশীলতা ভিত্তিতে কাজ করে ।
১০। কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেলের কাজ লেখ।
উত্তর : কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেলের কাজগুলো নিম্নরূপ :
১। সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সমাধা করা,
২। পণ্যের গুণগত মানের ক্রমাগত উন্নয়ন ও সমাধান অনুধাবনের চেষ্টা করা
৩। পণ্যের উৎপাদনশীলতার ক্রমাগত উন্নয়ন ও সমাধান খুঁজে বের করা।
৪। মেশিন, কর্মক্ষেত্র ও মেঝে পরিষ্কার রাখা।
৫। সহকর্মীদের উপরোক্ত কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করা।
১১। কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেলের সুবিধাগুলো দেখ
উত্তর :
১। বহু কর্মী পণ্যের গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা প্রয়োগের সুযোগ পায় ।
২. মেধা ও সৃজনশীলতা প্রয়োগে কর্মীরা সুযোগ পাওয়ায় তারা সম্মানিত বোধ করে।
৩. প্রতিষ্ঠানকে নিজের মত করে ভাবার অনুভূতি আসে।
১২। কী কী কারণে টেক্সটাইল শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন?
উত্তর: নিম্নলিখিত কারণগুলোর জন্য টেক্সটাইল শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব
(ক) মানের সমতা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ,
(খ) উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করা,
(গ) প্রব্যের গুণাগুণ উন্নতকরণ,
(ঘ) পরিদর্শন ব্যয় হ্রাস করা,
(ঙ) অপ্রয়োজনীয় এবং অসামঞ্জস্য দূরীভূত করা,
(চ) ডিজাইন ও প্রক্রিয়া উন্নয়ন,
(ছ) সম্পর্ক উন্নয়ন এবং
(জ) কারিগরি গুণের উন্নয়ন সাধন ।
১৩। পরিদর্শন গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: পরিদর্শন পরিমাপের সাহায্যে নির্ধারিত বিবরণের সাথে উৎপাদিত দ্রব্যের তুলনা করে দ্রব্যের গ্রহণীয়তার রায় প্রদান করা হয় বলে একে পরিদর্শন গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ বলে।
১৪। গ্রহণযোগ্য তারতম্যের কারণগুলো কী কী?
উত্তর: এ কারণগুলো হচ্ছে-
(i) তাপমাত্রা,
(ii) আর্দ্রতা,
(iii) মেশিনের অনুকম্পন,
(iv) বাতাসের মধ্যস্থিত ধুলাবালি,
(v) ভোল্টেজের বিষয় ইত্যাদি
১৫। কন্ট্রোল চার্ট ফর অ্যাট্রিবিউট কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর : কন্ট্রোল চার্ট ফর অ্যাট্রিবিউট চার প্রকার, যথা-
১. কন্ট্রোল চার্ট ফর নাম্বার অব ডিফেকটিভস,
২. কন্ট্রোল চার্ট ফর ফ্র্যাকশন ডিফেকটিভস,
৩. কন্ট্রোল চার্ট ফর পারসেন্ট ডিফেকটিভস,
৪. কন্ট্রোল চার্ট ফর নাম্বার অব ডিফেকটস।

রচনামূলক প্রশ্নাবলি
১। টেক্সটাইল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোয়ালিটি কন্ট্রোলের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর।
২। পরিদর্শন গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বুঝার একটি সুপরিকল্পিত পরিদর্শনের জন্য কী কী বিষয় বিবেচনা করা হয়
তা বর্ণনা কর।
৩। পরিসংখ্যান গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বুঝায়। গুণাগুণ তারতম্যের কারণগুলো ব্যাখ্যা কর।
৪। গ্রহণযোগ্য তারতম্য ও প্রতিরোধযোগ্য তারতম্যের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
৫। পরিসংখ্যান গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের ব্যাখ্যা দাও।
৬। কন্ট্রোল চটি বলতে কী বুঝায়? চিত্রসহ কন্ট্রোল চার্টের বিভিন্ন লিমিটগুলোর বর্ণনা দাও।
৭। কন্ট্রোল চার্টের মৌলিক ধারণা চিত্রসহ ব্যাখ্যা কর।
৮। কন্ট্রোল চার্টের লিমিটগুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা কর।
৯। প্রসেস কন্ট্রোলের নীতিসমূহ চিত্রসহ বর্ণনা কর।
১০। গড় কন্ট্রোল চার্টের গঠনপ্রণালি আলোচনা কর।
১১। রেঞ্জ কন্ট্রোল চার্টের গঠনপ্রণালি আলেচনা কর।
১২। কন্ট্রোল চার্ট ফর নাম্বার অব ডিফেকটিভস-এর গঠনপ্রণালি বর্ণনা কর।
১৩। কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেলের কর্মপদ্ধতি লেখ।
১৪। কন্ট্রোল চার্টের গুরুত্ব লেখ।