আজকের আলোচনার বিষয়ঃ আই এস ও কোয়ালিটি সার্টিফিকেট প্রাপ্তির শর্তসমূহ। যা টেক্সটাইল টেস্টিং অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল ৩ এর আই এস ও এর অন্তর্গত।

আই এস ও কোয়ালিটি সার্টিফিকেট প্রাপ্তির শর্তসমূহ (Steps provision for getting ISO quality certificate)
কোন প্রতিষ্ঠান আই এস ও কোয়ালিটি সার্টিফিকেট অর্জন করতে হলে তাকে আই এস ও গুণগত মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চাহিদাসমূহ অর্থাৎ শর্তসমূহ পূরণ করতে হবে। যদি প্রতিষ্ঠানের গুনগত মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আই এস ও এর চাহিদাসমূহ পূরণ করতে সক্ষম হয় অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানে এ ব্যবস্থা চালু হয় তাহলেই প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আই এস ও অনুগামী হবে।
চাহিদাসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হল ।
(ক) আওতা (Scope)
১। সাধারণ (General)
২। ব্যবহার (Application)
(খ) মানসংক্রান্ত সূত্র (Normative reference)
(গ) সংজ্ঞা (Terms and definitions)
(ঘ) গুণগত মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (Quality management system) t
১। সাধারণ চাহিদা (General requirements)
২। মালিলিক চাহিদা (Documentation requirements)
(i) সাধারণ (General)
(ii) কোয়ালিটি ম্যানুয়েল ( Quality manual)
(iii) দলিল নিয়ন্ত্রণ (Control of documents)
(iv) রেকর্ড নিয়ন্ত্রণ (Control of record)

(ঙ) ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব (Management responsibility)
১। ব্যস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতিজ্ঞা ও প্রতায় (Management commitment)
২। ক্রেতা কেন্দ্রিকতা (Customer focus)
৩। কোয়ালিটি পলিসি (Quality policy)
৪। পরিকল্পনা (Planning)
(i) গুণগত মানের উদ্দেশ্য (Quality objectives)
(ii) কোয়ালিটি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি পরিকল্পনা (Quality management system planning)
৫। দায়িত্ব, ক্ষমতা ও যোগাযোগ ( Responsibility, authority and communication)
(i) দায়িত্ব ও ক্ষমতা ( Responsibility and authority)
(ii) ব্যবস্থাপনা প্রতিনিধি (Management representative)
(iii) অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ (Internal communication)
৬। ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ (Management review)
(i) সাধারণ (General)
(ii) পর্যালোচনার উপাত্ত (Review input)
(iii) পর্যালোচনার ফলাফল ( Review output).
(চ) সম্পদ ব্যবস্থাপনা (Resource management)
১। সম্পদের সংস্থান (Provision of resources)
২। মানব সম্পন (Human resources)
(i) সাধারণ (General)
(ii) যোগ্যতা, সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ (Competence, awareness and training)
৩। অবকাঠামো (Infrastructure)
৪। কর্ম পরিবেশ (Work environment)

(ছ) পণ্য বাস্তবায়ন ( Product realisation)
১। পণ্য বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (Planning of product realisation)
২. ক্রেতাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া (Customer related process)
(i) পণ্যসংক্রান্ত চাহিদা (স্পেসিফিকেশন) নির্ধারণ (Determination of requirements related to the product)
(ii) পণ্যের স্পেসিফিকেশন পর্যালোচনা (Review of requirements related to the product)
(iii) ক্রেতার সাথে যোগাযোগ (Customer communication)
৩. ডিজাইন ও উন্নয় (Design and development)
(i) ডিজাইন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা (Design and development planning)
(ii) ডিজাইন ও উন্নয়নের উপাত্ত (Design and development inputs)
(iii) ডিজাইন ও উন্নয়নের ফলাফল (Design and development outputs)
(iv) ডিজাইন ও উন্নয়ন পর্যালোচনা (Design and development review)
(v) ডিজাইন ও উন্নয়নের যথার্থ প্রতিপাদন (Design and development verification)
(vi) ডিজাইন ও উন্নয়নের বৈধতা (Design and development validation)
৪। ক্রয় (Purchasing)
(i) ক্রয় প্রক্রিয়া (Purchasing process)
(ii) ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য (Purchasing information)
(iii) ক্রয়কৃত পণ্য যাচাই (Verification of purchased product).
৫. উৎপাদন ও সেবার সংস্থান (Production and service provision)
(i) উৎপাদন ও সেবার সংস্থান নিয়ন্ত্রণ (Control of production and service provision)
(ii) উৎপাদন ও সেবা সংস্থানের জন্য বৈধকরণ প্রক্রিয়াসমূহ (Validation of processes for production and service provision)
(iii) শনাক্তকরণ এবং অনুসরণযোগ্যতা (Identification and traceability)
(iv) ক্রেতার সম্পত্তি (Customer property)
(v) পণ্য সংরক্ষণ (Preservation of product)
(vi) মনিটরিং ও মাপন যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ (Control of monitoring and measuring devices)
(জ) পরিমাপ, বিশ্লেষণ ও উন্নয়ন (Measurement, analysis and improvement)
১। সাধারণ (General)
২। মনিটরিং ও পরিমাপ (Monitoring and measurement)
(i) ক্রেতা সন্তুষ্টি (Customer satisfaction)
(ii) অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষণ (Internal audit)
(iii) প্রক্রিয়ার নজরদারি ও পরিমাপ (Monitoring and measurement of processes)
(iv) পণ্যের উপর নজরদারি ও পরিমাপ (Monitoring and measurement of products)
৩. বাতিল পণ্যের নিয়ন্ত্রণ (Control of nonconforming product)
৪. উপাত্ত বিশ্লেষণ (Analysis of data)
৫। উন্নয়ন (Improvement)
(i) নিরন্তর উন্নয়ন (Continuous improvement)
(ii) প্রতিকারমূলক কার্যক্রম (Corrective action)
(iii) নিবারণমূলক কার্যক্রম (Preventive action)

(ক) আওতা (Scope)
১। সাধারণ ঃ
একটি আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড গুণগত মান ব্যবস্থপনা পদ্ধতির নিম্নলিখিত চাহিদাসমূহ নিরূপণ করে-
(i) মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ক্রেতা সন্তুষ্টি ও দেশের আইনগত চাহিদা মিটাতে সক্ষম কি না।
(ii) প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে অধিকতর ক্রেতা সন্তুষ্টির লক্ষ্যে নিরন্তর মান উন্নয়নে নিয়োজিত কি না।
২। ব্যবহার ঃ
এ আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক এবং প্রতিষ্ঠানের ধরন, আকৃতি, পণ্য নির্বিশেষে সকল
(খ) মানসংক্রান্ত সূত্র ঃ
মানসংক্রান্ত সূত্রের জন্য আই এস ও ৯০০০ এর সর্বশেষ সংস্করণের দলিলাদি প্রযোজ্য হবে। আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড সংগঠনের সদস্যগণ সর্বশেষ চালু স্ট্যান্ডার্ডের দলিলাদি সংরক্ষণ করবে।
(গ) সংজ্ঞা ঃ
এ আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড কর্তৃক ব্যবহৃত শব্দ সংজ্ঞাসমূহের জন্যআই এস ও ৯০০০ – ২০০০ সংজ্ঞা ও শব্দ ভাণ্ডার নামক স্ট্যান্ডার্ড প্রযোজ্য ।
(ঘ) মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি :
১। সাধারণ চাহিদা ঃ
প্রতিষ্ঠান একটি মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নির্ণয়, দলিলীকরণ, প্রতিষ্ঠা, বাস্তবায়ন ও বজায় রাখবে এবং আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তার নিরন্তর উন্নয়ন ও বিকাশ সাধন করবে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান নিম্নলিখিত বিষয়াদি সম্পন্ন করবে।
(ক) মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াসমূহ নির্ধারণ করবে এবং সমস্ত প্রতিষ্ঠান জুড়ে তা বাস্তবায়ন করবে ।
(খ) এ প্রক্রিয়াসমূহের ধারাবাহিকতা এবং মিথষ্ক্রিয়া নিরূপণ করবে।
(গ) প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় শর্তাবলি ও পদ্ধতি নিরূপণ করবে।
(ঘ) প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ও মনিটরিং নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পদের লভ্যতা নিশ্চিত করবে।
(ঙ) প্রক্রিয়াসমূহকে মনিটরিং, পরিমাপ ও বিশ্লেষণ করবে।
(চ) প্রক্রিয়া থেকে প্রাক্কলিত ফল পাওয়া ও প্রক্রিয়ার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কর্মকাণ্ড ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
২। দালিলিক চাহিদা :
(i) সাধারণ :
মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সংক্রান্ত দলিলাদির মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো থাকবে
(ক) মানসংক্রান্ত লিখিত পলিসি, লিখিত উদ্দেশ্যাবলি।
(খ) লিখিত কোয়ালিটি ম্যানুয়েল বা মানসংক্রান্ত পুস্তক।
(গ) আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী লিখিত ক্রিয়াবিধি বা কর্মকৌশল
(ঘ) প্রক্রিয়ার কার্যকরী পরিকল্পনা, কার্যকরণ ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত দলিলাদি ।
(ঙ) আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অন্যান্য দলিলাদি ।
(ii) কোয়ালিটি ম্যানুয়েল ঃ
প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী একটি কোয়ালিটি ম্যানুয়েল তৈরি করবে যার মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়াদি থাকবে।
(ক) মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আওতা।
(খ) মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির জন্য নির্ধারিত লিখিত প্রক্রিয়াসমূহ।
(গ) মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির প্রক্রিয়াসমূহের মধ্যে মিথষ্ক্রিয়া।
(iii) দলিল নিয়ন্ত্রণ :
মান ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত দলিলাদির কঠোর নিয়ন্ত্রণ আবশ্যক। দলিলে নিম্নলিখিত কার্যাবলি কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে তা লিখিতভাবে উল্লেখ থাকবে।
(ক) দলিল যথেষ্ট কি না তা কে অনুমোদন করবে।
(খ) কীভাবে দলিলাদি পুনঃবিবেচনা, হালনাগাদকরণ ও পুনঃ অনুমতি নিতে হবে।
(গ) দলিলাদির বর্তমান সংস্করণ ও তার পরিবর্তন কীভাবে শনাক্ত করা যাবে।
(ঘ) কীভাবে দলিলাদি পাঠযোগ্য সহজে শনাক্তযোগ্য হবে।
(ঙ) অচল দলিলাদির অনিচ্ছাকৃত ব্যবহার কীভাবে রোধ করা যাবে।
(iv) দলিলের নিয়ন্ত্রণ ঃ
পণ্যের স্পেসিফিকেশনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি হচ্ছে কি না এবং মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি যে কার্যকররূপে চালু আছে তার সাক্ষ্য হিসাবে দলিলাদি তৈরি ও চালু রাখতে হবে।

(ঙ) ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব
১। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতিজ্ঞা ও প্রত্যয়ঃ
ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উন্নয়ন এবং বা বায়নের ব্যবস্থা করবেন এবং যাতে এর কার্যকরী অরিত উন্নতি সাধন হয় তা নিশ্চিত করবেন।
২। ক্রেতা কেন্দ্রিকতা
উর্দ্ধাতন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে যাতে ক্রেতার চাহিদা সকলের নিকট বোধগম্য হয় এবং ক্রেতার সর্বোচ্চ সাধ মিটানো হয়।
৩। কোয়ালিটি পলিসি ঃ
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে যে-
(ক) কোয়ালিটি পলিসি প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ,
(খ) কোয়ালিটি পলিসি ধারণা করে যে, প্রতিষ্ঠান ক্রেতার চাহিদা মিটাতে ও মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও সদা তৎপর।
(গ) কোয়ালিটি পলিসি এমন একটি কাঠামো বিন্যাস করে যাতে প্রতিষ্ঠানের মানসংক্রান্ত উদ্দেশ্যাবলি হাসিল করা যায় এবং তা পুনঃবিবেচনা করা যায়।
(ঘ) কোয়ালিটি পলিসি প্রতিষ্ঠানের সকলকে আত করানো হয়।
(ঙ) কোয়ালিটি পলিসি পর্যালোচনা করা হয় যাতে এর যথার্থতা নিরূপণ করা সম্ভব হয়।
৪। পরিকল্পনা
(i) গুণগত মানের উদ্দেশ্যঃ
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে যে, গুণগত মানের উদ্দেশ্যাবলি প্রতিষ্ঠানের উপযুক্ত পর্যায়ে নির্ধারিত হবে। গুণগত মানের উদ্দেশ্যাবলি কোয়ালিটি পলিসির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং পরিমাপযোগ্য হবে।
(ii) মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির পরিকল্পনা ঃ
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে যে-
(ক) মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি পরিকল্পনা করা হয় যাতে পণ্য মানোত্তীর্ণ হয়।
(খ) মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মধ্যে কোন পরিবর্তন, পরিবর্ধন আনা হলে যাতে তার সংহতি বজায় থাকে।
৫। দায়িত্ব ক্ষমতা ও যোগাযোগ
(i) দায়িত্ব ও ক্ষমতা
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে যে, দায়িত্ব ও ক্ষমতা সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং সংগঠনের মধ্যে জ্ঞাত করানো হয়েছে।
(ii) ব্যবস্থাপনা প্রতিনিধি ঃ
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে যে, কর্তৃপক্ষ একজনকে নিম্নলিখিত দায়িত্ব ও 1 ক্ষমতা অর্পণ করেছে।
(ক) তিনি নিশ্চিত করবেন যে, মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াসমূহ নির্ধারিত, বাস্তবায়িত ও বজায় রাখা হয়েছে।
(খ) তিনি মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির কার্যকারিতা ও নিরন্তর উন্নয়নের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট নিবেন।
(গ) তিনি নিশ্চিত করবেন যে, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরেও সকলেই ক্রেতার চাহিদা ও সন্তোষের বিষয়ে পুরো সচেতন থাকে।
(iii) অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ঃ
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে যে, মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির কার্যকারিতা বিষয়ে যোগাযোগ করার জন্য প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে এবং মান ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা বিষয়ে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রাখা হয়।
৬। ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ
(i) সাধারণ
ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময় পর পর মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি পর্যালোচনা করবেন এবং এটা যথেষ্ট ও কার্যকরীভাবে ফলপ্রদ আছে কি না তা দেখবেন ।
(ii) পর্যালোচনার উপাত্ত
নিম্নলিখিত বিষয়গুলো পর্যলোচনার উপাত্ত হতে পারে-
(ক) অডিটের ফলাফল।
(খ) ক্রেতার ধারণা।
(গ) প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ও পণ্যের স্পেসিফিকেশনের সাথে সামঞ্জস্যতা।
(ঘ) নিবারণ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার ফলাফ
(ঙ) পূর্বেকার ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার পরে নেয়া কার্যক্রম ও তার ফলাফল।
(চ) ঐ সমস্ত পরিবর্তন যা মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে প্রভাবিত করতে পারে।
(ছ) উন্নয়নের বিষয়ে সুপারিশমালা
(iii) পর্যালোচনা থেকে ফলাফল
নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের ফলাফল হতে পারে
(ক) মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির কার্যকারিতার উন্নয়ন।
(খ) পণ্যের মানের উন্নয়ন।
(গ) অতিরিক্ত সম্পদের প্রয়োজনীয়তা।

(চ) সম্পদ ব্যবস্থাপনা
১। সম্পদের সংস্থান
নিম্নলিখিত কাজের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণ ও সংস্থান করবে
(ক) মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বাস্তবায়ন ও তার অবিরত উন্নয়নের জন্য ।
(খ) ক্রেতার চাহিদা মিটিয়ে ক্রেতা সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য।
২। মানব সম্পদ
(i) সাধারণ পণ্যের গুণগত মানের সাথে জড়িত কর্মীদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ দক্ষতা, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে উপযুক্ততা অর্জন করতে হবে।
(ii) যোগ্যতা, সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ ও প্রতিষ্ঠান নিম্নলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করবে-
(ক) মান ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত কর্মীদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নির্ধারণ করবে
(খ) প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে।
(গ) যে ব্যবস্থাদি নেয়া হয়েছে তার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করবে।
(ঘ) কর্মীরা যে তাদের কাজের তাৎপর্য ও সংশ্লিষ্টতা সম্বন্ধে সচেতন এবং মানসংক্রান্ত উদ্দেশ্যাবলি অর্জনে তাদের অবদানের বিষয়ে অবগত তা নিশ্চিত করতে হবে।
(ঙ) সংগঠনের কর্মীদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত রেকর্ড সংরক্ষণ করবে।
৩। অবকাঠামো
প্রতিষ্ঠান পণ্যের নির্দিষ্ট মান অর্জনের জন্য নিম্নলিখিত অবকাঠামো নির্ধারণ করবে এবং সেগুলো বজায় রাখবে।
(ক) দালান, কর্মস্থল ও অন্যান্য উপযোগসমূহ ।
(খ) যন্ত্রপাতি (হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার)।
(গ) অন্যান্য সাহায়ক সেবাসমূহ (যেমন- পরিবহন, যোগাযোগের যন্ত্রপাতি)।
৪। কর্মপরিবেশ
প্রতিষ্ঠান পণ্যের নির্দিষ্ট মান অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিবেশ তৈরি করবে।
(ছ) পণ্য বাস্তবায়ন
১। পণ্য বাস্তবায়ন পরিকল্পনা
প্রতিষ্ঠান পণ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উন্ন করবে। এ প্রক্রিয়াসমূহ মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির চাহিদাসমূহের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে।
পণ্য বাস্তবায়ন পরিকল্পনার সময় নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ নির্ধারণ করবে।
(ক) গুণগত মান সংক্রান্ত উদ্দেশ্যাবলি এবং পণ্যের স্পেসিফিকেশন,
(খ) পণ্য বস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রসেসসমূহ, ডকুমেন্ট ও সম্পন।
(গ) প্রয়োজনীয় যাচাই বৈধকরণ, মনিটরিং, ইন্সপেকশন ও পণ্য গ্রহণের শর্তাবলি।
(ঘ) পণ্য বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ানি ও উৎপাদিত পণ্য মানসম্পন্ন হয়েছে (দালিলিক প্রমাণ মোতাবেক)।
২। ক্রেতাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া
(i) পণ্যসংক্রান্ত চাহিদা নির্ধারণ :
প্রতিষ্ঠান নিম্নলিখিত বিষয়াদি নির্ধারণ করবে।
(ক) ক্রেতা কর্তৃক নির্ধারিত পণ্যের স্পেসিফিকেশন (সরবরাহ ও সরবরাহ পরবর্তী কর্মকাণ্ডসহ)।
(খ) ক্রেতা কর্তৃক স্পেসিফিকেশন দেয়া হয় নি কিন্তু ঈঙ্গিত ব্যবহারে প্রয়োজন (জ্ঞাত ক্ষেত্রে প্রযে
(গ) নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে আইনগত চাহিদা।
(ঘ) অন্য চাহিদাসমূহ যদি প্রযোজ্য হয়।
ii) পণ্যের স্পেসিফিকেশন পর্যালোচনা
প্রতিষ্ঠান পণ্য সংক্রান্ত চাহিদাসমূহ পর্যালোচনা করবে। এ পর্যালোচনা করতে হবে পণ্যের ক্রয়াদেশ নেয়ার পূর্বে। এয়াদেশ নেয়ার পূর্বে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে-
(ক) পণ্যের স্পেসিফিকেশন সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
(খ) চুক্তিসংক্রান্ত কোন তারতম্য সমাধা করা হয়েছে।
(গ) প্রতিষ্ঠানের পণ্যের স্পেসিফিকেশন মিটানোর সামর্থ্য আছে।
(iii) ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ :
প্রতিষ্ঠান ক্রেতার সাথে নিম্নলিখিত বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর যোগাযোগের পরিকল্পনা করবে।
(ক) পণ্যসংক্রান্ত তথ্য
(খ) অনুসন্ধান, চুক্তি, অর্ডার, হ্যান্ডলিং, সংশোধন, ইত্যাদি।
(গ) ক্রেতার অনুযোগ ইত্যাদি।

৩। ডিজাইন এবং উন্নয়ন
প্রতিষ্ঠান পণ্যের ডিজাইন এবং তার উন্নয়নের পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ করবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষ রাখবে।
(ক) পণ্যের ডিজাইন এবং উন্নয়নের স্তর।
(খ) পর্যালোচনা এবং যথার্থতভাবে প্রতিটি ডিজাইনের উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
৪। ক্রয়
(i) ক্রয় প্রক্রিয়া
ক্রয়কৃত মালামাল নির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। সরবরাহকারীকে মূল্যায়ন ও নির্বাচন করা হবে তার মানসম্পন্ন মালামাল সরবরাহের সামথ্যের উপর। প্রতিষ্ঠান সরবরাহকারীকে মূল্যায়ন, নির্বাচন ও পুনঃমূল্যায়নের মানদণ্ড নির্ধারণ করবে এবং এতদসংক্রান্ত রেকর্ডসমূহ সংরক্ষণ করতে হবে।
(ii) ক্রয় সংক্রান্ত তথ্য ঃ
ক্রয়সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে ক্রয়কৃত মালামালের বিবরণসহ নিম্নলিখিত বিষয়াদি-
(ক) মালামাল, ক্রিয়াবিধি, প্রক্রিয়া ও যন্ত্রপাতির অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়াদি।
(খ) কর্মী ও কর্মকর্তাদের শিক্ষাসংক্রান্ত চাহিদা
(গ) গুণগত মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিসংক্রান্ত চাহিদা।
ক্রেতা প্রতিষ্ঠান সরবরাহকারীর সাথে যোগাযোগের পূর্বেই ক্রয়সংক্রান্ত স্পেসিফিকেশন যথেষ্ট কি না তা নিশ্চিত করবে।
(iii) ক্রয়কৃত পণ্য যাচাই
ক্রয়কৃত মালামাল স্পেসিফিকেশন মোতাবেক হয়েছে কি না তা নির্ধারণের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় যাচাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়া ঠিক করবে।
৫। উৎপাদন ও সেবার সংস্থান
(i) উৎপাদন ও সেবার সংস্থান নিয়ন্ত্রণ : প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রিত অবস্থা ও পরিবেশে উৎপাদন ও সেবার সংস্থান তার পরিকল্পনা করবে।
নিয়ন্ত্রিত অবস্থা ও পরিবেশের মধ্যে থাকবে-
(ক) পণ্যের বৈশিষ্ট্য বিবৃত করা এমন বিবরণ সম্বলিত তথ্যের সহজলভ্যতা ।
(খ) কর্ম বিবরণীর সহজলভ্যতা যদি প্রয়োজন হয়।
(গ) মনিটরিং ও মাপন যন্ত্রের ব্যবহার।
(ঘ) মনিটরিং ও মাপন বাস্তবায়ন ।
(ঙ) পণ্যের সরবরাহ ও সরবরাহ পরবর্তী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন।
(ii) শনাক্তযোগ্যতা ও অনুসরণযোগ্যতা ঃ
প্রতিষ্ঠান সুনির্দিষ্ট উপায় বের করবে যাতে পণ্য বাস্তবায়নের 8 যে কোন স্তরে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়। যেখানে অনুসরণযোগ্যতা প্রয়োজন সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান পণ্যকে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ ও রেকর্ড করবে।
(iii) ক্রেতার সম্পত্তি ঃ
প্রতিষ্ঠান তার অধীনে বা ব্যবহারে থাকাকালে ক্রেতার কোন সম্পদের প্রয়োজনীয় যত্ন নিবে এবং সুরক্ষার ব্যবস্থা নিবে। ক্রেতার কোন সম্পদ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা হারিয়ে যায় তবে অবিলম্বে ক্রেতাকে জানাতে হবে এবং দলিলাদি সংরক্ষণ করবে।
(iv) পণ্য সংরক্ষণ :
প্রতিষ্ঠান প্রক্রিয়াকরণ থেকে শুরু করে সরবরাহ পর্যন্ত পণ্যের মান সংরক্ষণ করবে এর মধ্যে থাকবে শনাক্তকরণ, হ্যান্ডলিং, প্যাকেটজাতকরণ, সংরক্ষণ ও সুরক্ষা।
(v) মনিটরিং ও মাপন যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ
প্রতিষ্ঠান পণ্যের মান যাচাই করার জন্য কী কী মনিটরিং ও পরিমাপ যাচাই প্রয়োজন এবং সে লক্ষ্যে কী কী মনিটরিং ও মাপন যন্ত্র আবশ্যক তা নির্ধারণ করবে। প্রতিষ্ঠান ঐ প্রসেসসমূহ ও নিরূপণ করবে যা মনিটরিং ও পরিমাপ যাচাইয়ের জ প্রয়োজন। সঠিক ফলাফল লাভের জন্য মাপন যন্ত্রে নিম্নলিখিত বিষয়াদি থাকতে হবে।
(ক) মাপন যন্ত্র ব্যবহারের পূর্বে তা ক্যালিব্রেশন করে নিতে হবে।
(খ) প্রয়োজনে অ্যাডজাস্ট ও ব্যবহার উপযোগী করে নিতে হবে।
(গ) ক্যালিব্রেশনের অবস্থা নিরূপণ করতে হবে।
(ঘ) মাপন যন্ত্র এমনভাবে সংরক্ষণ করতে হবে যাতে ফলাফল সঠিক হয়।
(জ) পরিমাপ, বিশ্লেষণ ও উন্নয়ন
১। সাধারণ
প্রতিষ্ঠান মনিটরিং, পরিমাপ, বিশ্লেষণ, উন্নয়ন এ প্রক্রিয়াসমূহ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করতে হবে যাতে
(ক) পণ্য স্পেসিফিকেশনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা প্রদর্শন করা যাবে।
(খ) মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তা নিশ্চিত করা।
(গ) মান-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির কার্যকারিতা অবিরত উন্নয়ন করা।
২। মনিটরিং ও পরিমাপ
(i) ক্রেতার সন্তুষ্টি প্রতিষ্ঠান মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির কার্যকারিতা পরিমাপের জন্য পণ্যের মান সম্বন্ধে ক্রেতার ধারণা সংক্রান্ত তথ্যাদির উপর নজর রাখবে। এ জাতীয় তথ্য কীভাবে সংগ্রহ ব্যবহার করা যাবে তা নির্ধারণ করবে।
(ii) অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষণ : প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিত সময়ান্তরে মান-ব্যবস্থাপনা বিষয়ের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পরিচালনা করতে হবে যাতে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ বুঝা যায় ।
(ক) মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি পরিকল্পিত ব্যবস্থাদি আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডের অনুগামী কি না এবং মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির চাহিদা মেটাতে সক্ষম কি না।
(খ) প্রতিষ্ঠানে মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি কার্যকরীভাবে বাস্তবায়িত এবং তা বজায় রাখতে হবে।
(iii) প্রক্রিয়ার উপর মনিটরিং ও পরিমাপঃ প্রতিষ্ঠানকে মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির প্রক্রিয়াসমূহ মনিটর ও পরিমাপের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে এবং এর মাধ্যমে দেখতে হবে প্রক্রিয়াসমূহ পরিকল্পিত ফল দেয় কি না ফল পাওয়া না গেলে উপযুক্ত নিবারণমূলক ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
(iv) পণ্যের উপর মনিটরিং ও পরিমাপ ও প্রতিষ্ঠান মনিটরিং ও পরিমাপের মাধ্যমে স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। পণ্য বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পর্যায়ের পরিকল্পিত ব্যবস্থানুযায়ী প্রয়োজনীয় মনিটরিং ও পরিমাপ যাচাই করা হয়।
৩। বাতিল পণ্যের নিয়ন্ত্রণ ঃ
বাতিল পণ্য শনাক্ত করে তা যথাযথ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যাতে তা ভালো পণ্যের সাথে মিশিয়ে ক্রেতাকে সরবরাহ করা না হয়। বাতিল পণ্য কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, কার দায়িত্ব থাকবে ইত্যাদি লিখিত ক্রিয়াবিধি থাকতে হবে।
(ক) শনাক্তকৃত ত্রুটি দূর করার ব্যবস্থা নিতে হবে ।
(খ) ক্রেতার বিধানকৃত উপায়ে এগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে।
(গ) এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে কোনভাবেই এগুলো ব্যবহার করা না যায়।
৪। উপাত্ত বিশ্লেষণ
প্রতিষ্ঠানের মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি যথেষ্ট কি না বা কোথায় এর উন্নয়ন করা যায় তা নিরূপণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করতে হবে। উপাত্ত বিশ্লেষণের ফলে নিম্নলিখিত বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।
(ক) ক্রেতা সন্তুষ্টি বিষয়ক
(খ) পণ্যের ঈন্সিত মান বিষয়ক।
(গ) প্রক্রিয়াসমূহ ও পণ্যের বৈশিষ্ট্য ও ধাঁচ এবং নিবারণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ বিষয়ক
(ঘ) মালামাল সরবরাহকারী বিষয়ক

৫। উন্নয়ন
(i) নিরস্তর উন্নয়ন
কোয়ালিটি পলিসি কোয়ালিটি অবজেকটিভস, অডিটের ফলাফল, উপাত্ত বিশ্লেষণ, নিবারণ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাদি গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির অবিরত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
(ii) প্রতিকারমূলক কার্যক্রম
পণ্য কাঙ্ক্ষিত মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হলে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাদি গ্রহণ করতে হবে যাতে অসামঞ্জস্যতা পুনর্বার দেখা না দেয়।
প্রতিষ্ঠান দলিলকৃত ক্রিয়াবিধি তৈরি করবে যাতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো থাকে।
(ক) অসামঞ্জস্যতা পর্যালোচনা করা ।
(খ) অসামঞ্জস্যতার কারণ নিরূপণ ।
(গ) প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিরূপণ ও বাস্তবায়ন করা ।
(ঘ) প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাদির ফলাফলের রেকর্ড রাখা।
(iii) নিবারণমূলক কার্যক্রম ঃ
প্রতিষ্ঠান এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যাতে অসামঞ্জস্যতার কারণ দূরীভূত হয় এবং অসামঞ্জস্যতা তৈরি হতে না পারে।
এ ব্যাপারে একটি দলিলকৃত ক্রিয়াবিধি তৈরি করতে হবে যাতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো থাকবে ।
(ক) সম্ভাব্য ত্রুটিসমূহ ও তার কারণ ।
(খ) ত্রুটি নিবারণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ করা।
(গ) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিরূপণ করা ও বাস্তবায়ন করা।
(ঘ) ব্যবস্থা গ্রহণের ফলাফল রেকর্ড করা এবং
(ঙ) যে সমস্ত নিবারণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা পর্যালোচনা করা।