আজকের আলোচনার বিষয়ঃ জিপার, স্প্রেডিং, প্যাটার্ন, কাটিং, সিউজিং লিমিং এবং অ্যাসেম্বলিং এর ত্রুটি। যা টেক্সটাইল টেস্টিং অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল ৩ এর অ্যাপারেল কোয়ালিটি এর অন্তর্গত।

জিপার, স্প্রেডিং, প্যাটার্ন, কাটিং, সিউজিং লিমিং এবং অ্যাসেম্বলিং এর ত্রুটি (Defects of Zippers, Spreading, Pattern, Cutting, Sewing, Seaming and Assembling)
(ক) জিপারের ত্রুটি (Defects of Zipper)
জিপারের অপর নাম চেইন (Chain) চেইন বা জিপার পোশাকের একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা ত্রুটিপূর্ণ হলে পোশাকটি ব্যবহারের অযোগ্য হতে পারে।
নিয়ে জিপারের প্রধান প্রধান ত্রুটির তালিকা দেয়া হল-
১। জিপারের আকার সঠিক না হলে।
২। জিপারের রং সঠিক না হলে।
৩। জিপারের উপরের এবং নিচের স্টপস (Stops) প্রান্ত নিরাপদ (Secured) না হলে।
৪। জিপারের টেপ এবং রং সুষম না হলে
৫। চেইন লাগানোর পর কুঁচকানো (Pucker) দেখা গেলে।
৬। চেইনের রং, আকার, ভৌত ও আয়রনিং করার পর পরিবর্তন হলে
৭। চেইনের মধ্যে স্লাইডারের (Slider) চলাচল সহজ না হলে।
৮। স্লাইডার ঠিকমত আবদ্ধ (Lock) না হলে।
৯। স্লাইডারের মধ্যে তাঁর চিহ্নিত দিক অনুযায়ী চেইনকে পোশাকের মধ্যে না লাগালে।

(খ) স্প্রেডিং এর ত্রুটি (Defects of Spreading)
কাপড় বিছানোর সময় যে সকল ত্রুটির জন্য উৎপাদিত পোশাকের গুণাগুণ নিম্নমানের হতে পারে তার একটি তালিকা দেওয়া হল-
১। মার্কারের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ অনুযায়ী কাপড় স্প্রেডিং না হলে।
২। কাপড়ের স্প্রেড বেশি টাইট (Tight) বা বেশি ঢিলা (Loose) হলে।
৩। কাপড় স্প্রেডিং এর সময় অসম টেনশনের কারণে কাপড়ের মধ্যে বায়াস (Bias) সৃষ্টি হলে।
৪। কাপড় স্প্রেডিং এর সময় অধিক ও অপর্যাপ্ত স্প্রাইসিং (Splicing) হলে
৫। কাপড় স্প্রেডিং এর সময় স্থির বিদ্যুৎ (Static Electricity) সৃষ্টি হলে।
৬। কাপড়ের প্রতিটি প্লাইয়ের দিক সঠিকভাবে স্প্রেডিং না হলে
৭। কাপড়ের প্রেডিং এর সময় কাপড়ের মধ্যস্থিত চেক বা স্ট্রাইপ ম্যাচিং (Matching) না হলে।
৮। প্রতিটি স্প্রেডে কাপড়ের প্লাই এর সংখ্যা সঠিক না হলে
(গ) প্যাটার্ন ত্রুটি (Defects of Pattern)
নিম্নে প্যাটার্নের ত্রুটির তালিকা দেয়া হল-
১। প্রতিটি প্যাটার্ন পিসের আকৃতি সঠিক না হলে ।
২। সাইজ অনুযায়ী সকল প্যাটার্নসমূহ সঠিক না হলে।।
৩। প্যাটার্নের সঙ্গে সেলাই ভাতা (Sewing allowance) সংযোজন করা না হলে
৪। প্রতিটি প্যাটার্নের উপর তীর চিহ্নের সাহায্যে কাপড়ের টানা সুতার দিক নির্দেশক চিহ্ন না থাকলে
৫। প্রতিটি প্যাটার্নের উপর সাইজ ও অংশের নাম লিখা না থাকলে
৬. প্যাটার্নসমূহ সেলাই রেখা বরাবর U বা V আকৃতির খাঁজ না কাটা হলে

(ঘ) কাটিং এর ত্রুটি (Cutting defects)
উচ্চমানের পোশাক তৈরির একটি অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে উচ্চমানের কাপড় কাটা। নিম্নে কাপড় কাটার ত্রুটির তালিকা দেয়া হল-
১। প্যাটার্নের আকৃতি ও কর্তিত অংশের আকৃতি একই না হলে।
২। কর্তিত অংশসমূহের আকৃতি মুসল ও পরিচ্ছন্ন না হলে।
৩। কর্তিত অংশের কোন প্রাপ্ত বা প্রাপ্তসমূহ ফিউশন (Fusion) জনিত কারণে জোড়া লেগে গেলে
৪। ঠিকমত মচ (Notch) মার্ক দেয়া না হলে ।
৫। ছিল মার্ক যথাস্থানে এবং সঠিক সাইজের না হলে।
(ঙ) সেলাই ত্রুটি (Sewing defects)
পোশাকের মান অনেকাংশে নির্ভর করে এর সেলাই এর উপর। পোশাকের সেলাইজনিত ত্রুটি একটি বড় সমস্যা। নিম্নে সেলাই এর প্রধান প্রধান ত্রুটির তালিকা দেয়া হল-
১। নিডেল ড্যামেজ (Needle damage)
কাপড়ের সুতা ছিঁড়ে যাওয়া, সুতা বের হয়ে যাওয়া, কাপড়ের মধ্যে বড় হিসেব সৃষ্টি হওয়া।
২। স্কিপড স্টিচ (Skipped stitch)
উপরের ও নিচের সুতা ধারাবাহিকভাবে বাইন্ডিং না হলে।
৩। সুতা ছিঁড়ে যাওয়া (Thread breaks)।
৪। সিম পাকার (Scam pucker) সেলাই কুঁচকে যাওয়া।
৫। ভুল স্টিচ ঘনত্ব (Wrong stitch density)- সেলাই এর ঘনত্ব কমবেশি হওয়া।
৬I অসম স্টিচ (Uneven stitch)
৭। আঁকাবাঁকা স্টিচ (Stagged stitch)।
৮। ত্রুটিপূর্ণভাবে উৎপন্ন স্টিচ (Improperly formed stitch)।
৯। তেলের দাগ (Oil spot or stain

(চ) সিমিং ত্রুটি (Seaming defects)
নিম্নে সিমের ত্রুটির তালিকা দেয়া হল-
১। ইনলে (Inlay) ভুল বা অসম গ্রন্থ (wrong/uneven width)
২। ভুল বা অসম সেলাই রেখা।
৩। স্টিচ সিকিউর করা না হলে অর্থাৎ ব্যাক স্টিচ না থাকলে।
৪। টুইস্টিং।
৫। চেক বা স্ট্রাইপ ম্যাচিং না হলে।
৬। সিম ম্যাচিং না হলে।
৭। সেলাই এর মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত দ্রব্য আটকে গেলে
৮। কাপড়ের সামনের দিক (Face side) ও পিছনের দিক (Back Side) সমন্বয় করে সেলাই না হলে।
৯। ভুল স্টিচ টাইপ বা ভুল সিম টাইপ ব্যবহার করা হলে।
১০। সুতার শেড ম্যাচিং না হলে।
(ছ) সংযোজন ত্রুটি (Assembling defects)
নিম্নে সংযোজন ত্রুটির তালিকা দেয়া হল-
১। ফিনিশড কম্পোনেন্ট যদি সঠিক সাইজের বা আকৃতির না হয়
২। পোশাকের সাইজ যদি সঠিক না হয়।
৩। পোশাকে কোন অংশ বা কোন নির্দিষ্ট ডিজাইন যদি বাদ পড়ে যায় অথবা ভুল টিকেট নাম্বার ব্যবহার করা হয়।
৪। কোন কম্পোনেন্ট যদি ঠিকমতো জায়গায় স্থাপিত না হয়ে থাকে বা Alignment না হয়ে থাকে।
৫। ইন্টারলাইনিং যদি ঠিকমতো স্থানে বসানো না হয়ে থাকে বা কুঁচকে থাকে বা চেপে থাকে।
৬। লাইনিং যদি বেশি ঢিলা বা বেশি টাইট হয়।
৭। পোশাকের কোন অংশ যদি কুঁচকে বা ভাঁজ পড়ে থাকে।
৮। পোশাকের মধ্যে রঙের শেডিং পরিলক্ষিত হলে।
৯। পোশাকের মধ্যে প্রতিটি অংশের কাপড়ের দিক যদি ঠিক না থাকে।
১০। পোশাকের মধ্যে যে সকল আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি (Trimmings) লাগানো হয়েছে তা ঠিকমত ম্যাচিং না হলে।