কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ পদ্ধতি 

আজকে আমরা কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা টেক্সটাইল টেস্টিং অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল ৩ এর কাপড়ের আকৃতিগত পরীক্ষার এর অন্তর্গত।

 

কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ পদ্ধতি 

 

কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ পদ্ধতি(Method of determining the length of fabric)

(ক) মেজারিং টেবিল ব্যবহার করে,(a) Using a measuring table,

(খ) মেজারিং মেশিন ব্যবহার করে, (b) Measuring scale,

(গ) মেজারিং স্কেল ব্যবহার করে  (c) Measuring machine)

কাপড়ের দৈর্ঘ্য বলতে কাপড়ের পাড় বরাবর এর একপ্রান্ত হতে অন্য প্রান্তের দূরত্বকে বুঝায় । কাপড়ের দৈর্ঘ্য নির্ণয়ের একক হিসাবে গজ বা মিটার ব্যবহৃত হয়।

কাপড়ের দৈর্ঘ্য নির্ণয়ের জন্য আইএসআই (ISI) কর্তৃক প্রস্তাবিত নিম্নোক্ত তিনটি পদ্ধতি রয়েছে।

(ক) মেজারিং টেবিল ব্যবহার করে (By using measuring table)

(খ) মেজারিং মেশিন ব্যবহার করে (By using measuring machine)

(গ) মেজারিং স্কেল ব্যবহার করে (By using measuring scale)

 

কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ পদ্ধতি 

 

(ক) মেজারিং টেবিল (Measuring table) :

কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপের জন্য যে টেবিল ব্যবহৃত হয় তাকে মেজারিং টেবিল বলে। এটা এমন এক ধরনের টেবিল যাতে এক পার্শ্বে দাগাংকিত থাকে এবং কাপড়ের সম্পূর্ণ গ্রন্থ ধরে। যে কাপড়ের দৈর্ঘ্য নির্ণয় করতে হবে তাকে পাড়ের মধ্যে ৫ গজ পর পর চিহ্নিত করা হয়। এরপর কাপড়টি আদর্শ আবহাওয়ায় ২৪ ঘণ্টা রাখার পর আবার দৈর্ঘ্য মাপা হয়।

যদি দ্বিতীয় মাপটি প্রথম মাপের চেয়ে ০.২৫% কম হয় তাহলে দ্বিতীয় মাপটিই সঠিক বলে ধরে নেয়া হয়। আর যদি তা না হয় তাহলে কাপড়টিকে আবার ২৪ ঘণ্টার জন্য কন্ডিশনিং করা হয় এবং মাপ নেয়া হয়। এভাবে যতক্ষণ পর্যন্ত না পাশাপাশি দুটি মাপের মধ্যে পার্থক্য ০.২৫% হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চালানো হয় । কাঙ্ক্ষিত পার্থক্য পাওয়া গেলেই দ্বিতীয় মাপটি কাপড়ের সঠিক দৈর্ঘ্য বলে গৃহীত হয়।

 

(খ) মেজারিং স্কেল দ্বারা (Using measuring scale) :

এ পদ্ধতিতে কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপের জন্য সমতল পৃষ্ঠের মেজারিং টেবিল ব্যবহার করা হয়। টেবিলটি সাধারণত ৫ মিটারের চেয়ে কিছুটা বেশি দৈর্ঘ্যের হয়ে থাকে এবং এই পরীক্ষিত কাপড়ের বহরের সাথে মানানসই হয়ে থাকে। উক্ত টেবিলে একটি মেজারিং স্কেল থাকে, যা মিটারে এবং সেন্টিমিটারে দাগাংকিত থাকে।

যে কাপড়ের টুকরাকে পরিমাপ করতে হবে তার একপ্রান্ত ধরে টেনে টেবিলের সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য বরাবর নেওয়া হয়। তবে টেবিলের উপরে কাপড়ের যে অংশ থাকবে তা অবশ্যই ভাঁজমুক্ত হতে হবে। কাপড়ের টেনশন এমন হবে যাতে সেটা টেবিলের উপরে কাপড়কে সোজা এবং সমান্তরাল রাখে। এরপর মেজারিং স্কেলের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে কাপড়ের প্রান্ত থেকে শুরু করে ১, ২ বা ৩ মিটার পর পর দাগ দেওয়া হয়। এভাবে কাপড়কে সামনে টেনে নেওয়া হয় এবং পূর্বের মত দাগ দেওয়া হয় ও নোট করা হয়।

এভাবে মেজারিং স্কেলের সাহায্যে কাপড়ের টুকরার দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা হয়।

 

কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ পদ্ধতি 

 

(গ) মেজারিং মেশিন (Measuring machine)

এ মেজারিং মেশিনকে টুমিটার (Trumeter) বলে। এ মেশিনে লুটি রোলারের মধ্য দিয়ে কাপড়কে টানা হয়। কাপড়ের ঘর্ষণে রোলার ঘুরে যার পরিমাণ একটি কাউন্টারের মাধ্যমে মিটারে প্রদর্শিত হয়। এ কাউন্টার থেকে প্রাপ্ত মানই কাপড়ের দৈর্ঘ্য নির্দেশ করে। মেজারিং মেশিন দ্বারা আবার তিনভাবে কাপড়ের দৈর্ঘ্য নির্ণয় করা যায়

(1) ড্রাম মেথড (Drum method)

(ii) ফোল্ডিং মেথড (Folding method)

(iii) ক্লাক মেঘ (Clack method)

Leave a Comment