বিভিন্ন কাউন্টের সুতার জন্য বিভিন্ন গুণাগুণের তুলা

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়-বিভিন্ন কাউন্টের সুতার জন্য বিভিন্ন গুণাগুণের তুলা

বিভিন্ন কাউন্টের সুতার জন্য বিভিন্ন গুণাগুণের তুলা (Different quality of cotton for different count of yarn) :

তুলা দ্বারা সুতা প্রস্তুত করা হয়। সুতা মোটা ও চিকন বিভিন্ন কাউন্টের হয়ে থাকে। সূক্ষ্ম সুতা তৈরির জন্য উন্নতমানের তুলা ব্যবহার করা হয়, আবার মোটা সুতা তৈরির জন্য নিম্নমানের সুতা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বর্তমানে তুলা দ্বারা ১০’s থেকে প্রায় ২০০’s পর্যন্ত সুতা ইন্ডাস্ট্রিতে প্রস্তুত করা হয়। তবে আমাদের দেশে ১০০/১২০’s এর উপরে সুতা উৎপাদন করা হয় না।

১০’s কটন কাউন্ট সুতা প্রস্তুত করতে অতি নিম্নমানের তুলা হলেই চলে। ইন্ডাস্ট্রিতে সাধারণত ব্যবহারকৃত ওয়েস্টেজ দ্বারা ১০’s এর সুতা প্রস্তুত করা হয়। পাশাপাশি ১০০ বা তার উপরের কাউন্টের সুতা প্রস্তুতের জন্য ১০০% উন্নত মানের তুলা ব্যবহার করা হয়।

নিম্নে তুলার গুণাগুণ বর্ণনা করা হলো-
সাধারণ অর্থে কাউন্টকে সুতার সূক্ষ্মতা (Fineness) বুঝায়। এক কথায় কাউন্টের সংজ্ঞা প্রদান করতে হলে বলা যায়, কাউন্ট সুতার একক দৈর্ঘ্যের ভর বা একক ভরের দৈর্ঘ্য প্রকাশ করে। সুতার কাউন্ট নির্ণয়ের দুটি পদ্ধতি আছে; যথা—

১। পরোক্ষ পদ্ধতি (Indirect system)
২। প্রত্যক্ষ পদ্ধতি (Direct system)।

১। পরোক্ষ পদ্ধতি (Indirect system) :

সুতার একক ভরের দৈর্ঘ্যকে কাউন্ট বলা হয়। সুতার কাউন্ট যত বেশি হবে সুতা তত চিকন বা সূক্ষ্ম হবে। এই পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের একক ও ওজনের একক আছে। নিম্নলিখিত সূত্রের সাহায্যে সহজে সুতার কাউন্ট নির্ণয় করা যায় :

বিভিন্ন কাউন্টের সুতার জন্য বিভিন্ন গুণাগুণের তুলা

২। প্রত্যক্ষ পদ্ধতি (Direct system) :

সুতার একক দৈর্ঘ্যের ভরকে কাউন্ট বলে। সুতার কাউন্ট যত কম হবে স তত মোটা বা স্থূল হবে। এই পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের একক ও ওজনের একক আছে যা দ্বারা সহজেই কা
নির্ণয় করা যায় ।
নিম্নলিখিত সূত্রের সাহায্যে সহজেই সুতার কাউন্ট নির্ণয় করা যায় :

বিভিন্ন কাউন্টের সুতার জন্য বিভিন্ন গুণাগুণের তুলা

তুলার গুণাবলি (Properties of cotton) :

ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহারের জন্য আমদানিকৃত তুলা ও দেশীয় তুলা উভয়ই ব্যবহারের পূর্বে তার গুণাবলি যাচাই করে নেয়া প্রয়োজন। সাধারণত বিভিন্ন দেশের তুলার গুণাগুণ বিভিন্ন হয়। মূলত বিভিন্ন দেশের মাটির পার্থক্য, আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপর তুলার গুণাগুণের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

এটা ছাড়াও সার ও কীটনাশক ব্যবহারের উপরও তুলার গুণাগুণের পরিবর্তন হয়। তুলা আঁশের মান নিম্নলিখিত গুণাগুণের উপর নির্ভর করে । যেমন— ১। আঁশের দৈর্ঘ্য (Staple length)

আঁশের শক্তি (Strength of fibre)

৫। আঁশের পরিপক্বতা (Maturity of fibre)
৩। সূক্ষ্মতা (Fineness)
৬। ট্রাশের পরিমাণ (Trash content)
৭। নমনীয়তা (Pliability)
৪। তুলার আঁশের বর্ণ (Colour of cotton fibre)

১। আঁশের দৈর্ঘ্য (Fibre Length)

: তুলা আঁশের দৈর্ঘ্যের উপর আঁশের গুণাগুণ অনেকাংশে নির্ভর করে। আবার আঁশের দৈর্ঘ্যের উপর প্রস্তুতকৃত সুতার গুণাগুণ নির্ভর করে। সাধারণত বড় দৈর্ঘ্যের আঁশ অপেক্ষাকৃত মসৃণ ও শক্ত হয়ে থাকে । আবার ছোট দৈর্ঘ্যের আঁশের সুতা তৈরির ক্ষমতা কম থাকে। সাধারণত ১২ মিমি-এর কম দৈর্ঘ্যের আঁশ দ্বারা সুতা তৈরি করা সম্ভব হয় না। তুলা আঁশের দৈর্ঘ্য সাধারণত ১২.৭ মিমি থেকে ৬০ মিমি পর্যন্ত হয়ে থাকে ।

 

২। আঁশের শক্তি (Strength of fibre) :

আঁশের শক্তি হচ্ছে আঁশ কতটুকু টান প্রতিরোধ করে। তুলা আঁশের শক্তিকে প্রকাশ করা হয়, টেনসাইল স্ট্রেন্থ (Tensile Strength), যার একক পাউন্ডস/বর্গইঞ্চি (Pounds/ squire inch সংক্ষেপে (P.S.I.) অথবা গ্রাম/টেক্স (gm/tex)। আঁশের শক্তি মাত্রাতিরিক্ত কম হলে উক্ত আঁশ দ্বারা সুতা তৈরি সম্ভব হয় না। কম শক্তির আঁশ দ্বারা সুতা তৈরি করা হলে তৈরিকালীন সময়ে রিং ফ্রেমে সুতা ছেঁড়ার হার বৃদ্ধি পায়, উৎপাদন কম হয় এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়।

আঁশের শক্তির প্রায় ৮০% শক্তিই সুতার শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। যেহেতু আঁশের শক্তি ছাড়া ভালো শক্তিসম্পন্ন সুতা তৈরি সম্ভব হয় না, কাজেই সুতা তৈরিতে শক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এককথায় বলা যায়, শক্তিবিহীন আঁশের অন্যসব গুণই অর্থহীন। নিম্নে আঁশের শক্তির রেটিং দেওয়া হল

৩। সূক্ষ্মতা (Fineness) :

কোনো বস্তুর সূক্ষ্মতা সাধারণত তার ব্যাস বা প্রস্থচ্ছেদের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তুলা আঁশের সূক্ষ্মতা তার ব্যাস এবং আঁশে উপস্থিত সেলুলোজ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সাধারণ অর্থে বলা যায়, ছোট দৈর্ঘ্যের আঁশ মোটা ও ম্বা দৈর্ঘ্যের আঁশ সূক্ষ্ম অর্থাৎ চিকন হয়।

সূক্ষ্ম আঁশ দ্বারা উচ্চ কাউন্টের এবং উচ্চ মানের সুতা তৈরি করা সম্ভব। সুতার স্থচ্ছেদের ভিতর আঁশের সংখ্যা যত বেশি হবে সুতার শক্তি ও মান তত ভালো হবে। কাজেই আঁশ যত সূক্ষ্ম হবে সুতার ধ্য আঁশের সংখ্যাও তত বেশি হবে।

তুলা আঁশের ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতা পরিমাপের জন্য প্রতি ১ ইঞ্চি আঁশের ওজন মাইক্রো গ্রামে াশ করা হয়। এটাকে মাইক্রোনিয়ার ভ্যালু (Micronaire value) বলা হয়। [০.০০০০০১ গ্রাম = ১ মাইক্রো গ্রাম।] মাইক্রোনিয়ার ভ্যালু রেটিং নিম্নে দেওয়া হলো-

৪। তুলা আঁশের রং (Colour of fibre) ঃ

বিভিন্ন এলাকা বা বিভিন্ন দেশের আঁশের রং প্রকারভেদে বিভিন্ন রকমের ■াকে । মিক্সিং ও ব্লেন্ডিং এর ক্ষেত্রে আঁশের রং একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সুতার বিভিন্ন রঙের আঁশ “, পরবর্তী ফিনিশিং প্রক্রিয়ার; যেমন – ডাইং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিং প্রক্রিয়ায় ভালো ফল পাওয়া যায় না ।

লা চাষের পারিপার্শ্বিক অবস্থা, আবহাওয়া, জলবায়ু, মৃত্তিকার ধরন ও তুলার জাতের উপর ফাইবারের রং বহুলাংশে ল। তুলা আঁশের রং সাধারণত সাদা বা সাদার কাছাকাছি ধূসর থেকে বাদামি হতে পারে।

 

বিভিন্ন কাউন্টের সুতার জন্য বিভিন্ন গুণাগুণের তুলা

 

 

৫। পরিপক্বতা (Maturity of fibre) ঃ

পরিপক্বতা আঁশের একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ। সুতার গুণগতমান অনেকাংশেই নির্ভর করে আঁশের পরিপক্বতার উপর। আশ পরিপক্ক না হলে সুতা তৈরির জন্য আঁশ প্রক্রিয়াজাত করার সময় খুব অসুবিধার সৃষ্টি হয় এবং প্রক্রিয়াগত অপদ্রব্য বেশি হয়। সুতার অত্যধিক পরিমাণে নেপের সৃষ্টি হয় ও সুতার শক্তিও
হয়, সর্বোপরি সুতার মান খারাপ হয়। নিম্নে ম্যাচুরিটির রেটিং দেওয়া হলো :

৬। ট্রাশের পরিমাণ (Trash Content) :

ট্রাশ বলতে সাধারণত তুলার মধ্যে আঁশ ভিন্ন অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় দ্রব্য। ফরেইন ম্যাটার (Foreign Matter) যেমন- ভাঙা পাতা, মরা পাতা, কুঁড়ি, ধুলাবালি, ময়লা বীজের টুকরা, ক্ষুদ্র আঁশ, ে ইত্যাদিকে বুঝায় । এককথায় তুলায় অবস্থিত নলিন্ট (Nonlint) দ্রব্যকে ট্রাশ বলা হয়।

সাধারণত ০.১ ইঞ্চি বা তার চো বড় ব্যাসবিশিষ্ট দ্রব্যকে ট্রাশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আঁশে ট্রাশের পরিমাণ সাধারণত ১ থেকে ১৫ শতাংশ। তুলা আঁ অর্থাৎ বেলে (Bale) ট্রাশের পরিমাণ যত কম হবে তুলা আঁশ তত ভালো গ্রেডের হবে।

৭। নমনীয়তা (Pliability) ঃ

নমনীয় ফাইবারের পক্ষে পাঁক ধারণ করা সহজসাধ্য। তুলা দ্বারা সুতা তৈরির স আঁশের এই গুণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা সরাসরি কাপড়ের গুণকে প্রভাবিত করতে পারে। আবার অত্যধিক নমনীয় বা অত্যি অনমনীয় এর কোনোটাই সুতা তৈরির জন্য কামনীয় নয়। উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যের জন্য কাপড়কে বার বার ভাঁজকরণেও ত কোনো ক্ষতি হয় না ।

 

 

Leave a Comment