আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়-স্পিনিং সিস্টেমের শ্রেণিবিভাগ
স্পিনিং সিস্টেমের শ্রেণিবিভাগ (Classification of spinning system)
স্পিনিং সিস্টেমের শ্রেণিবিভাগ নিম্নে ছক আকারে দেখানো হলো—

শর্ট স্ট্যাপল স্পিনিং (Short Staple Spinning) :
সাধারণত যেসব আঁশের দৈর্ঘ্য ৬০ মিলিমিটারের চেয়ে কম সে-সব আঁশসমূহকে শর্ট স্ট্যাপল ফাইবার বা আঁশ বলা হয়। কাজেই শর্ট স্ট্যাপল স্পিনিং এর সংজ্ঞা এভাবে দেওয়া যায়, যে-সব আঁশের দৈর্ঘ্য ৬০ মিমি-এর চেয়ে কম, উক্ত আঁশ দ্বারা যে পদ্ধতিতে পাকানোর মাধ্যমে স্পিনিং করে সুতা তৈরি করা হয় তাকে শর্ট স্ট্যাপল স্পিনিং (Short staple spinning) বলে ।
শর্ট স্টাপল স্পিনিং আবার চার প্রকার; যথা—
১। রিং স্পিনিং
.২।রোটর স্পিনিং
৩। এয়ার ভেটেক্স স্পিনিং
৪। ড্রেফ স্পিনিং
বিভিন্ন প্রকার স্পিনিং সিস্টেম
- ফ্রিকশন স্পিনিং
- এয়ার জেট স্পিনিং
- ওয়ার্প স্পিনিং
- এডহেসিভ প্রসেস
- সেলফ টুইস্ট স্পিনিং
- ফলস্ টুইস্ট স্পিনিং ইলেকট্রস্ট্যাটিক স্পিনিং
- ফেলটিং প্রসেস।
- ডিক্স স্পিনিং
১। রিং স্পিনিং (Ring Spinming) :
রিং স্পিনিং ফ্রেমের দু পার্শ্বে সমান সংখ্যক করে মোট ৪০০ স্পিন্ডপ বসানো থাকে। দুই সারি স্পিন্ডেলকে আলাদাভাবে মেশিনের মাঝখানে অবস্থিত একটি গোলাকার লম্বা ড্রাম
ফিতার সাহায্যে খুব দ্রুতগতিতে চাপিয়ে থাকে। ড্রামটি সরাসরি মোটর দ্বারা চাপানো হয়। স্পিডলের উপর বসানো থাকে কাঠের বা প্লাস্টিকের ববিন। প্রতিটি স্পিডলের চতুর্দিকে ঘিরে থাকে ইস্পাতের তৈরি গোলাকার রিং, যার উপরে ইজি অক্ষর ‘স’ (c) আকারে ইস্পাতের ট্রাভেলারে বসানো থাকে।

২। রোটর অথবা ওপেন এন্ড স্পিনিং (Rotor or Open end Spinning) :
আঁশের গুচ্ছকে (স্লাইভার) প্রথমে ফিড রোলারের মাধ্যমে ওপেনিং হয়ে ফাইবার টিউব অথবা ডফিং টিউবের মাধ্যমে রোটর-এ চলে যায়। আঁশসমূহ রোটরের গ্রুভ-এ জমা হয় । রোটর খুব উচ্চ গতিতে ঘুরতে থাকে। রোটরের গতি সর্বোচ্চ ১৫০,০০০ আর. পি. এম।
বাইরে থেকে একটি সুতা রোটরে প্রবেশ করে ডেলিভারি রোলারের মাধ্যমে সুতা উৎপাদন অব্যাহত রাখে। যেহেতু রোটর থেকে উৎপাদনের জন্য বাইরে থেকে একটি মুক্ত সুতা রোটরের মধ্যে প্রবেশ করাতে হয় এবং পরবর্তীতে উক্ত মুক্ত সুতা (Open end) ডেলিভারি রোলারের উৎপাদিত সুতা সমেত ডেলিভারি হতে থাকে, সেজন্য রোটর স্পিনিংকে ওপেন অ্যান্ড স্পিনিং বলা হয়ে থাকে।
৩। ফ্রিকশন স্পিনিং (Friction Spinning)
দুইটি ড্রাম দ্বারা ফ্রিকশন সৃষ্টির মাধ্যমে টুইস্ট দিয়ে সুতা তৈরি হয় বলে এই স্পিনিং সিস্টেমকে ফ্রিকশন স্পিনিং বলে। প্রথম আবিষ্কৃত ফ্রিকশন স্পিনিং DREF-1 ও DREF-II নামে পরিচিত। পরবর্তীতে DREF-III আবিষ্কৃত হয় যা জনপ্রিয়তা লাভ করে।
DREF-II পদ্ধতিতে ড্র স্লাইভারকে প্রথমে ওপেনিং রোলারের সাহায্যে ওপেন করে দুইটি ছিদ্রযুক্ত ড্রামের মাঝে নিক্ষেপ করা হয়। বায়ুপ্রবাহের দ্বারা ফাইবার একই সরলরেখায় বিন্যাস করে ড্রামদ্বয়ের ফ্রিকশনাল সারফেসে সংগ্রহ ও জমা রাখা হয়। ছিদ্রযুক্ত ড্রামদ্বয়ের ঘর্ষণের ফলে আঁশ টুইস্টেড হয়ে সুতায় রূপ পায় ও পরে ডেলিভারি রোলারের মাধ্যমে ডেলিভারি হয়ে জমা হয়।
৪। এয়ার জেট স্পিনিং (Air Jet Spinning) :
কমপ্রেসড বায়ুপ্রবাহের দ্বারা আঁশসমূহ টুইস্ট প্রদানের মাধ্যমে সুতা প্রস্তুত করা হয় বলে এই স্পিনিং পদ্ধতিকে এয়ার জেট স্পিনিং বলা হয়ে থাকে। ড্রাফটিং জোনে স্লাইভারসমূহ ড্রাফটেড হয়ে একটি সিলিন্ড্রিক্যাল চেম্বারের মধ্যে এয়ার জেট নজেল অতিক্রম করাকালীন সময়ে কমপ্রেসড এয়ার প্রবাহিত করা হয়, ফলে ফাইবারগুলো বাতাসের প্রবাহের কারণে টুইস্টেড হয়ে সম্মুখে অগ্রসর হয়।
পুনরায় পরবর্তী চেম্বারের মধ্য দিয়ে আঁশসমূহ অতিক্রম করার সময়ে বিপরীতমুখী টুইস্ট প্রদানের মাধ্যমে ফল্স টুইস্ট পেয়ে নজেল থেকে বের হয়ে আসে। ফল্স টুইস্টের কারণে টুইস্ট খুলে যেতে চায় এবং হেয়ারী ও প্রজেকটিং ফাইবারগুলো কোরের পৃষ্ঠে জড়িয়ে যায়। এরূপ তৈরিকৃত সুতা টেকআপ রোলারের মাধ্যমে ইয়ার্ন প্যাকেজে জড়াতে থাকে ।

৫। লং স্ট্যাপল স্পিনিং (Long staple spinning)
লম্বা দৈর্ঘ্যের আঁশ বলতে সাধারণ হিসেবে ৬০ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের চেয়ে বেশি দৈর্ঘ্যের আঁশ লম্বা আঁশ অর্থাৎ লং স্ট্যাপল আঁশ বলা হয়ে থাকে। তবে লম্বা আঁশ ১০০ মিমি-এর চেয়ে বেশি দৈর্ঘ্যের হয়। সাধারণত লং অর্থাৎ লম্বা দৈর্ঘ্যের আঁশ দ্বারা স্পিনিং পদ্ধতির মাধ্যমে সুতা তৈরি করাকে লং স্ট্যাপল স্পিনিং বলা হয়।
কাজেই উপরিউক্ত দৈর্ঘ্যের আঁশ দ্বারা যে পদ্ধতিতে স্পিনিং করে অর্থাৎ পাক দিয়ে সুতা তৈরি করা হয়, এই পদ্ধতিকে লং স্ট্যাপল স্পিনিং পদ্ধতি বলে। যেমন— উল, জুট, সিল্ক, অ্যাঙ্করাইলিক স্পিনিং ও লিলেন, ফ্লাক্স স্পিনিং পদ্ধতিসমূহকে লং স্ট্যাপল স্পিনিং নামে অভিহিত করা হয়।