প্রাণিজ ফাইবার পশম বা উল ফাইবার কোন সময় থেকে পোশাকের জন্য তথা গৃহস্থালি পোশাক হিসেবে ব্যাবহিত হয়ে আসছে তার সঠিক কোন তথ্য আজ ও পাওয়া যায় নি। নি:সন্ধে বলা যায়,মানুষের পোশাকের জন্য ব্যাবহিত পশম ই হচ্ছে সর্ব প্রথম টেক্সটাইল ফাইবার। প্রাচীন কালে বন্য ভেড়ার পশম সহ চামড়া গায়ে দিয়ে চামড়া গায়ে দিয়ে শীত নিবারণের প্রচেষ্টার মধ্যো দিয়ে উলের ব্যাবহারের সুচনা ঘটে।
প্রাণিজ ফাইবার
প্রাকৃতিক ফাইবারের শ্রেণিবিভাগ
প্রকৃতিতে পাওয়া যায় বা প্রকৃতিতে জন্মে এসব গাছ, পাতা, ছাল, ফুল, প্রাণী, খনি ইত্যাদি থেকে যে ফাইবার সংগ্রহ করা হয় তা প্রাকৃতিক ফাইবার। উৎপত্তির উপর ভিত্তি করে এ ফাইবারকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
১। উদ্ভিজ ফাইবার (Vegetable Fibre)
২। প্রাণিজ ফাইবার (Animal Fibre)
৩। খনিজ ফাইবার (Mineral Fibre)

১। উদ্ভিজ ফাইবার (Vegetable Fibre)
গাছের ছাল, গাছের পাতা, বীজ ইত্যাদি হতে যে ফাইবার পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ ফাইবার। পৃথিবীতে যে ফাইবার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বেশি ব্যবহৃত হয় অর্থাৎ কটন ফাইবার হলো উদ্ভিজ ফাইবার। এটি উদ্ভিজ বীজ হতে সংগ্রহ করা হয়। পুনরায় উৎপত্তির উপর ভিত্তি করে একে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
ক) বীজ ফাইবার (Seed Fibre)
খ) বাস্ট ফাইবার (Bast Fibre)
গ) লিফ ফাইবার (Leaf Fibre)
বীজ ফাইবার (Seed Fibre)
আঁশসমূহ বীজের চারপাশে থাকে বলে এ আঁশকে বীজ ফাইবার বলা হয়। কটন অর্থাৎ তুলা হলো বীজ ফাইবারের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এ ছাড়া শিমুল ক্যাপকও বীজ ফাইবার।
বাস্ট ফাইবার (Bast Fibre)
এ জাতীয় ফাইবার উদ্ভিদের ফল অথবা বাকল হতে পাওয়া যায়। পাট (Jute) হলো বাস্ট ফাইবারের অন্যতম উদাহরণ। এ ছাড়া লিনেন, শন (Hemp), র্যামিও বাস্ট ফাইবার।
লিফ ফাইবার (Leaf Fibre)
গাছের পাতা মূল বা ডাঁটা হতে যে ফাইবার পাওয়া যায় তা লিফ ফাইবার। উদাহরণ সিসাল, পাইন আপেল ইত্যাদি।
প্রাণিজ ফাইবার (Animal Fibre)
প্রাণী হতে সরাসরি যে ফাইবার পাওয়া যায় তা প্রাণিজ ফাইবার। বিভিন্ন প্রজাতির ভেড়া বা ভেড়া জাতীয় প্রাণীর পশম হতে উল ফাইবার পাওয়া যায়। আবার পলু পোকা নামক এক প্রকার পোকার তৈরি গুটি থেকে ফিলামেন্টের আকারে যে ফাইবার পাওয়া যায় তা রেশম বা সিল্ক ।

প্রাণীজ ফাইবার/উল ফাইবারের উপাদানসমূহ
কেরাটিন (Keratin) – ৩৩%
ডার্ট (Dirt) – ২৬%
সুইন্ট (Suint) – ২৮%
চর্বি (Fat) – ১২%
মিনারেল (Mineral) – ১%
প্রাণীজ/উল ফাইবারের বৈশিষ্ট্য
- উল ফাইবারের দৈর্ঘ্য সাধারনত ১-৮ ইঞ্চি হয়ে থাকে।
- উল ফাইবারের রং সাধারনত বাদামি নয়তো হালকা ক্রিম কালার হয়।
- এই ফাইবারের পানি ধারণক্ষমতা অনেক বেশি।
- শীতকালে এই পোশাকের চাহিদা অনেক বেশি থাকে।
- উল ফাইবার দ্বারা তৈরিকৃত পোশাক শীতকালে আরামদায়ক।
- উল ফাইবার ১১০° পর্যন্ত তাপ নিতে পারে তার বেশি হলে ফাইবার তার নিজস্ব শক্তি হারিয়ে ফেলে।

প্রাণিজ ফাইবার নিয়ে বিস্তারিত ঃ